এশিয়ায় সমুদ্রপথে আমদানি হওয়া তাপীয় কয়লার দাম চার বছরের সর্বনিম্ন অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আমদানির পরিমাণে। চীন, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় কয়লা আমদানিকারক দেশ। এসব দেশে অক্টোবরে তাপীয় কয়লার আমদানি কমেছে বলে জানিয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক পণ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ডিবিএক্স কমোডিটিজ। খবর রয়টার্স।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী গত জুনে তাপীয় কয়লার দাম তলানিতে নেমেছিল। এর পর থেকেই অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সর্বোচ্চ মান বা গ্রেডের কয়লার দাম ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। জুলাই ও আগস্টে দাম কম থাকায় আমদানি সামান্য বেড়েছিল। তবে অক্টোবর নাগাদ পণ্যটির দাম আবার বাড়তে শুরু করায় ক্রেতারা সতর্ক হয়েছেন।
চীনের সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লা আমদানির পরিমাণ অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮১ লাখ ৭০ হাজার টনে, যা সেপ্টেম্বরের ২ কোটি ৮৪ লাখ ৩০ হাজার টনের তুলনায় কম। গত বছরের একই সময় দেশটি আমদানি করেছিল ৩ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টন। ভারতের আমদানি কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টনে, যা আগের মাস ও আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কম।
ডিবিএক্স কমোডিটিজ জানিয়েছে, জাপানে তাপীয় কয়লার আমদানি অক্টোবরে নেমে এসেছে ৯ লাখ ৫২ হাজার টনে, যা সেপ্টেম্বরের ১০ লাখ ৪৪ হাজার টন ও গত বছরের একই সময়ের ৯ লাখ ৯৪ হাজার টনের চেয়ে কম। দক্ষিণ কোরিয়ায় পণ্যটির আমদানি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার টনে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ৮ লাখ ১৯ হাজার টন। তবে গত বছরের তুলনায় দেশটির আমদানি সামান্য বেড়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান কয়লার (৫ হাজার ৫০০ কিলোক্যালরি/কেজি) দাম ২০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে পৌঁছেছে টনপ্রতি ৭৬ ডলার ৩৪ সেন্টে। এটি জুনের শুরুর ৬৫ ডলার ৭২ সেন্টের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি এবং মার্চের পর সর্বোচ্চ। ইন্দোনেশিয়ান কয়লার (৪ হাজার ২০০ কিলোক্যালরি/কেজি) দামও একই সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৪৫ ডলার ২৬ সেন্টে, যা জুলাইয়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি।
জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া তুলনামূলক উচ্চ গ্রেডের অস্ট্রেলিয়ান কয়লা ব্যবহার করে। নিউক্যাসল বন্দরে ৬ হাজার কিলোক্যালরি/কেজি মানের কয়লার দাম বর্তমানে টনপ্রতি ১০৫ ডলার ৩৪ সেন্টে স্থিতিশীল রয়েছে।